ঢাকা পোস্টে মাল্টিমিডিয়া জার্নালিস্ট পদে চাকরির সুযোগ

অনলাইন নিউজ পোর্টাল ঢাকা পোস্ট নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে। প্রতিষ্ঠানটি মাল্টিমিডিয়া জার্নালিস্ট পদে জনবল নিয়োগের লক্ষ্যে এ বিজ্ঞপ্তি দিয়েছে। আবেদন করা যাবে আগামী ১০ জুন পর্যন্ত। আগ্রহী প্রার্থীরা অনলাইনে আবেদন করতে পারবেন। নির্বাচিত প্রার্থীরা বেতন ছাড়াও প্রতিষ্ঠানের নীতিমালা অনুযায়ী আরও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা পাবেন।এক নজরে ঢাকা পোস্টে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি ২০২৬ প্রতিষ্ঠানের নাম ঢাকা পোস্ট  চাকরির ধরন বেসরকারি চাকরি প্রকাশের তারিখ ০৩ জুন ২০২৬ পদ সংখ্যা ১টি লোকবল নিয়োগ ৪ জন চাকরির খবর ঢাকা পোস্ট জবস আবেদন করার মাধ্যম অনলাইন আবেদন শুরুর তারিখ ০৩ জুন ২০২৬ আবেদনের শেষ তারিখ ১০ জুন ২০২৬ আবেদন করার লিংক অফিশিয়াল নোটিশের নিচে প্রতিষ্ঠানের নাম: ঢাকা পোস্ট পদের নাম: মাল্টিমিডিয়া জার্নালিস্টলোকবল নিয়োগ: ০৪ জন  শিক্ষাগত যোগ্যতা: স্নাতক/স্নাতকোত্তর ডিগ্রিঅন্যান্য যোগ্যতা: ভিজ্যুয়াল কন্টেন্ট তৈরি ও স্ক্রিপ্ট রাইটিংয়ে দক্ষতা থাকতে হবে। মোবাইল জার্নালিজম, ফিল্ড রিপোর্টিং ও ফেসবুক লাইভে পারদর্শী হতে হবে। লাইভ স্ট্রিমিং ও লাইভ সংক্রান্ত ডিভাইস ও সফটওয়্যার সম্পর্কে ধারণা থাকতে হবে।অভিজ্ঞতা: কমপক্ষে ২ থেকে ৩ বছর  বিজ্ঞাপন দায়িত্বসমূহ :  চাকরির ধরন: ফুলটাইমপ্রার্থীর ধরন: নারী-পুরুষ (উভয়) বয়সসীমা: প্রযোজ্য নয় বিজ্ঞাপন কর্মস্থল: ঢাকা বেতন: আলোচনা সাপেক্ষে অন্যান্য সুবিধা: প্রতিষ্ঠানের নীতিমালা অনুযায়ী আবেদন প্রক্রিয়া আবেদনের শেষ তারিখ: ১০ জুন ২০২৬

ফ্রান্সের জাদুঘর থেকে চুরি হয়েছে কলার সেই বিতর্কিত শিল্পকর্ম

ফ্রান্সের একটি জাদুঘর থেকে ইতালীয় শিল্পী মাউরিজিও ক্যাটেলানের বিতর্কিত শিল্পকর্ম ‘কমেডিয়ান’-এর অংশ কলাটি চুরি হয়ে গেছে। এ ঘটনায় জাদুঘর কর্তৃপক্ষ অজ্ঞাতদের বিরুদ্ধে একটি অভিযোগ দায়ের করেছে। সিএনএনের বৃহস্পতিবারের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ফ্রান্সের স্থানীয় সময় গত শনিবার মেতজ শহরের ‘সেন্টার পম্পিদু-মেতজ’ জাদুঘরের একজন নিরাপত্তা কর্মী চুরির ঘটনাটি জানান। ওইদিনই জাদুঘর কর্তৃপক্ষ এক বিবৃতিতে বিষয়টি নিশ্চিত করে।  বিবৃতিতে বলা হয়, চুরির ঘটনাটি প্রদর্শনীতে থাকা শিল্পকর্মের প্রতি অবমাননা। এর ফলে দর্শনার্থীরা সাময়িকভাবে প্রদর্শনীর পুরো অভিজ্ঞতা থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। চুরির ঘটনার পর সেখানে আরেকটি নতুন কলা বসানো হয়েছে। কমেডিয়ান নামের ওই শিল্পকর্মটিতে মূলত, একটি কলা স্কচটেপ দিয়ে দেয়ালে আটকে রাখা হয়েছে। এই শিল্পকর্মের কলা গায়েব হয়ে যাওয়ার ঘটনা এটাই প্রথম নয়। শিল্পী মাউরিজিও ক্যাটেলান শিল্পকর্মটি প্রথম প্রদর্শন করেন ২০১৯ সালে, যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায়। তখন আরেক শিল্পী দেয়াল থেকে কলাটি খুলে শত শত দর্শনার্থীর সামনে খেয়ে ফেলেন। ২০২৩ সালে দক্ষিণ কোরিয়ার সিউলেও প্রদর্শনীর সময় কলা খেয়ে ফেলেন শিল্পকলার এক শিক্ষার্থী।

গাইবান্ধায় বজ্রপাতে একসঙ্গে মা-ছেলের মৃত্যু

গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলায় বজ্রপাতে মা ও ছেলের মৃত্যু হয়েছে। বুধবার সন্ধ্যায় উপজেলার ভরতখালী ইউনিয়নের মান্দুরা গ্রামের দাসপাড়ায় এ ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন মান্দুরা গ্রামের শৈলেন চন্দ্র দাসের স্ত্রী কল্পনা রাণী (৫৫) এবং তার ছেলে সোহাগ চন্দ্র দাস (৩২)। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সোহাগ চন্দ্র দাস ঢাকায় চাকরি করতেন। ঈদুল আজহার ছুটিতে তিনি বাড়িতে এসেছিলেন। বিকেলে হঠাৎ আবহাওয়া খারাপ হয়ে ঝড়ো হাওয়া, হালকা বৃষ্টি ও বজ্রপাত শুরু হয়। এ সময় বাড়ির বাইরে শুকাতে দেওয়া খড়ের পাতা আনতে কল্পনা রাণী ছেলেকে সঙ্গে নিয়ে বাইরে যান। একপর্যায়ে তারা আকস্মিক বজ্রপাতে গুরুতর আহত হন। স্থানীয়রা দ্রুত তাদের উদ্ধার করে গাইবান্ধা সদর হাসপাতালে নেওয়ার চেষ্টা করলে পথেই মা-ছেলের মৃত্যু হয়। স্থানীয় ইউপি সদস্য শাহিন আলম বলেন, বজ্রপাতের পরপরই দুজনকে উদ্ধার করা হয়। তবে হাসপাতালে নেওয়ার আগেই তাদের মৃত্যু হয়। সাঘাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহবুব আলম বলেন, ‘ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। মা-ছেলের মৃত্যুর ঘটনায় অপমৃত্যুর মামলার প্রক্রিয়া চলমান।’

জয়পুরহাটে পুকুরের পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যু

জয়পুরহাটের কালাইয়ে পুকুরের পানিতে ডুবে জোবায়ের হোসেন (২) নামে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৪ জুন) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে কালাই পৌরশহরের আঁওড়া কালিমহুর মহল্লার দড়াগাড়ি নামক পুকুরে এ ঘটনা ঘটে। নিহত জোবায়ের হোসেন একই এলাকার মো. জুয়েল রানার ছেলে। পরিবারের বরাত দিয়ে কালাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রফিকুল ইসলাম জানান, সকালে জোবায়ের বাড়ির উঠোনে অন্যান্য শিশুদের সঙ্গে খেলছিল। একপর্যায়ে সবার অগোচরে সে বাড়ির পাশের পুকুরে পড়ে পানিতে ডুবে যায়। পরিবারের লোকজন শিশুটিকে দেখতে না পেয়ে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। পরে স্থানীয় কয়েকজন পুকুরে শিশুটিকে ভাসতে দেখে চিৎকার করলে পরিবারের সদস্যরা দ্রুত তাকে উদ্ধার করেন। গুরুতর অবস্থায় শিশুটিকে কালাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

সিলেটে এসএসসি পরীক্ষার্থীকে বলাৎকারের অভিরযাগে বৃদ্ধসহ আটক ২

সিলেটে এসএসসি পরীক্ষার্থীকে বলাৎকারের অভিযোগে বৃদ্ধসহ দুইজনকে আটক করেছে পুলিশ।শুক্রবার (৫ মে) ওই শিক্ষার্থীর পরিবারের সদস্য ও স্থানীয়রা উপশহর এলাকা থেকে অভিযুক্ত দুইজনকে আটক করে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে। অভিযোগের ব্যাপারে তদন্ত করছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ওই তরুণ (১৫) ও অভিযুক্তরা পূর্বপরিচিত। গত ২৯ মে কুরবানির ঈদের পরের দিন তাকে ঘুরতে নিয়ে যাওয়ার কথা বলে অভিযুক্ত দুইজন সুবিদবাজার এলাকার লন্ডনী রোডে একটি বাসায় নিয়ে যায়।সেখানে তাকে জোরপূর্বক বলাৎকার করা হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে। ঘটনার পর তরুণটি বিষয়টি কাউকে না জানালেও পরবর্তীতে পরিবারের সদস্যরা বিষয়টি জানতে পারেন।এ বিষয়ে উপশহর পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ শরিফুল ইসলাম জানান, আটক দুইজনের একজনের বয়স ৭৯ বছর এবং অপরজনের বয়স ৩৫ বছর। তদন্তের স্বার্থে তাদের নাম-পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে প্রকাশ করা যাচ্ছে না বলে তিনি জানান।

বিস্তারিত

সংবিধান সংশোধন কমিটিতে যাবে না জামায়াত-এনসিপি­

সংবিধানের অষ্টাদশ সংশোধনীর জন্য বিএনপির নেতৃত্বাধীন ক্ষমতাসীন জোট  ‘সংবিধান সংশোধন বিশেষ কমিটি’ গঠনের যে প্রস্তাব করেছে, তাতে অংশ নেবে না জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোট। তারা গণভোটের ফলাফল অনুযায়ী সংবিধান সংস্কারের দাবি জানিয়ে যাবে।  বিরোধীদের ভাষ্য, দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরে সরকার যেভাবে চাইবে, সেভাবেই সংবিধান সংশোধন করতে পারে। বিরোধীদের ‘নোট অব ডিসেন্ট’ আমলে না নিলে কিছুই করার নেই। অন্তর্বর্তী সরকারের সময় জারি করা অধ্যাদেশগুলো বাছাইয়ে গঠিত সংসদীয় কমিটিতে বিরোধী দলের নোট অব ডিসেন্ট গ্রহণ করা হয়নি। এগুলো নিয়ে পরে সংসদে আলোচনার সিদ্ধান্ত হলেও তা কার্যকর করা হয়নি। বিরোধী জোটের নেতারা বলছেন, শুধু ‘বৈধতা’ দিতে কমিটিতে অংশগ্রহণের কোনো অর্থ নেই। তাই তারা রাজপথেই সমাধান দেখছেন।  আগামী ১৩ জুন থেকে ২৫ জুলাই পর্যন্ত ছয় বিভাগীয় শহরে সমাবেশ করবে জামায়াতের নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্য। গত ১৫ মে তারা প্রথম সমাবেশ করেছে রাজশাহীতে। আগস্টে ঢাকায় বড় জমায়েত করার পরিকল্পনা রয়েছে এই জোটের। সংবিধান সংশোধনে গত ২৯ এপ্রিল জাতীয় সংসদের বিশেষ কমিটি গঠনের প্রস্তাব দেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। সেদিন তিনি বলেন, ১৭ সদস্যের কমিটি গঠন হবে। এর সাতজন হবেন বিএনপির এমপি। গণঅধিকার পরিষদ, গণসংহতি আন্দোলন এবং স্বতন্ত্র এমপিদের মধ্যে পাঁচজন হবেন কমিটির সদস্য। বিরোধী দল থেকে আরও পাঁচজন সদস্য থাকবেন। বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান সেদিন সংসদে বলেন, কমিটি গঠনের ক্ষেত্রে তাদের ধারণাগত ভিন্নতা আছে। তারা এ প্রস্তাবটি নিজেরা আলোচনা করে পরে সিদ্ধান্ত জানাবেন। বিরোধী দল চেয়েছে সংস্কার, কিন্তু সরকারি দল করতে চাইছে সংবিধানের সংশোধন।  সেদিন আইনমন্ত্রী বলেছিলেন, বিরোধী দলের সিদ্ধান্তের জন্য পরবর্তী অধিবেশন পর্যন্ত অপেক্ষা করতে অসুবিধা হবে না। আগামী ৭ জুন সংসদে বাজেট অধিবেশন শুরু হবে। জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ সমকালকে বলেছেন, এই কমিটিতে অংশগ্রহণের সুযোগ নেই। অতীত অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে সংসদ এবং কমিটিতে সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরে সরকারি দল যা চাইবে, তাই হবে। তাই এ ধরনের কমিটিতে অংশগ্রহণ অর্থহীন এবং বৈধতা দেওয়া ছাড়া আর কিছু নয়।  সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীর জন্য ২০১০ সালে গঠিত সংসদের বিশেষ কমিটিতে যোগ দেয়নি তৎকালীন বিরোধী দল বিএনপি। আওয়ামী লীগের সৈয়দা সাজেদা চৌধুরীকে চেয়ারম্যান এবং সুরঞ্জিত সেনগুপ্তকে কো-চেয়ারম্যান করে গঠিত ১৫ সদস্যের ওই কমিটিতে জাতীয় পার্টি, ওয়ার্কার্স পার্টি এবং জাসদের একজন করে এমপি ছিলেন। বিএনপি থেকে তিনজন সদস্য নেওয়ার প্রস্তাব করেছিল তৎকালীন সরকারি দল আওয়ামী লীগ। এই কমিটি সংবিধানে ৫১টি সংশোধনের প্রস্তাব করেছিল। এতে সংবিধানে জাতির পিতা বিধান যোগ করা, গণভোট বাদ দেওয়া, সংবিধান সংশোধনকে কঠিন করা, সংবিধান লঙ্ঘনে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধানের মতো সুপারিশ ছিল। তবে ছিল না তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বিলোপের সুপারিশ।  পরে আদালতের রায়ের নজির দিয়ে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তত্ত্বাবধায়ক সরকার বাতিলের পক্ষে অবস্থান নেন। সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) তথ্যানুযায়ী, এতে কমিটির ১৫ সদস্য আগেই অবস্থান বদলে ফেলেন। সর্বসম্মতিক্রমে সুপারিশ করেন তত্ত্বাবধায়ক সরকার বিলোপে।  অতীতের এই উদাহরণ দিয়ে সেই সংসদের এমপি হামিদুর রহমান আযাদ গতকাল বুধবার সমকালকে বলেন, এবারও তাই হবে। জামায়াত বা ১১ দলের নিজস্ব কোনো দাবি নেই। গণভোটের ফলাফল যেভাবে হয়েছে, সেভাবেই সংবিধান সংস্কার করতে হবে। এ জন্য সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন করতে হবে; কমিটি নয়। আজকের প্রধানমন্ত্রী নির্বাচনী প্রচারে গণভোটে হ্যাঁ ভোট চেয়েছিলেন। সেখান থেকে সরে গিয়ে জুলাই সনদের আলোকে সংবিধান সংস্কার না করা প্রতারণা। এতে জামায়াত অংশীদার হবে না।  এনসিপির সদস্য সচিব আখতার হোসেন একই অবস্থানের কথা জানান। তিনি বলেন, গণভোটে অনুমোদিত জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন আদেশে স্পষ্ট করে বলা আছে, কীভাবে সংবিধান সংস্কার করতে হবে। কিন্তু সরকারি দল জনগণের অনুমোদিত আদেশকেই অবৈধ বলছে। এনসিপি গণভোটের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা হয় এমন কিছু মানবে না। তাতে অংশও নেবে না।  বিরোধী দল কমিটিতে অংশ না নিলেও, সংবিধান সংশোধনের কাজ এগিয়ে নেবে বলে সরকারি দলের সূত্রে জানা গেছে। এ বিষয়ে হামিদুর রহমান আযাদ ও আখতার হোসেন সমকালকে বলেন, সরকার সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরে তা করতেই পারে। কিন্তু পরিণাম কারও জন্যই ভালো হবে না।  সরকারের সঙ্গে এ বিষয়ে কথা হচ্ছে কিনা– এমন প্রশ্নে হামিদুর রহমান বলেন, অন্যান্য বিষয়ে কথা হলেও সংবিধান সংশোধন বা সংস্কার বিষয়ে আলোচনা নেই। বিরোধী জোট মনে করে, গণভোটের মাধ্যমে বিষয়টি ফয়সালা হয়ে গেছে। রাষ্ট্রের মালিক হিসেবে জনগণ সিদ্ধান্ত দিয়েছে, কীভাবে সংবিধান করতে হবে। যারা তা মানবে না, তারা ফ্যাসিবাদ অব্যাহত রাখার জন্য দায়ী হবে।  জামায়াত জোটে আরেক শরিক বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের যুগ্ম মহাসচিব আতাউল্লাহ আমীন সমকালকে বলেন, জোটগতভাবে এখনও সিদ্ধান্ত হয়নি। তবে ১১ দলের অন্য শরিকদের মতো বাংলাদেশ খেলাফতের অবস্থান হলো গণভোটে ৬৮ শতাংশ জনগণ যেভাবে সংবিধান সংস্কারের পক্ষে ভোট দিয়েছে, সেভাবে সংবিধান সংস্কার করতে হবে। অন্য কিছু গ্রহণযোগ্য হবে না।  রাজনৈতিক দলগুলোর সংলাপে জুলাই জাতীয় সনদ তৈরি করেছিল জাতীয় ঐকমত্য কমিশন। সনদের ৪৮টি প্রস্তাব সংবিধান-সম্পর্কিত। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের গঠন পদ্ধতি; ভোটের অনুপাতে সংসদের উচ্চকক্ষ গঠন ও সংবিধান সংশোধনে অনুমোদন; সাংবিধানিক কমিটির মাধ্যমে সরকারি কর্মকমিশন, দুর্নীতি দমন কমিশন, ন্যায়পাল এবং মহাহিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক নিয়োগের প্রস্তাবে বিএনপির নোট অব ডিসেন্ট (ভিন্নমত) রয়েছে। গণভোটে অনুমোদিত জুলাই সনদ বাস্তবায়ন আদেশকে অবৈধ আখ্যা দেওয়া দলটি নোট অব ডিসেন্ট অনুযায়ী সংবিধান সংশোধন করতে যাচ্ছে।  অন্যদিকে জামায়াত, এনসিপিসহ জোটের শরিকরা জুলাই সনদের সংবিধান-সম্পর্কিত প্রস্তাবগুলো হুবহু বাস্তবায়নের পক্ষে। তাদের ভাষ্য, গণভোটে ৬৮ দশমিক ৬ শতাংশ ভোটার হ্যাঁ ভোট দিয়ে এসব সংস্কারে সম্মতি দিয়েছে। তা মেনে সংশোধন নয়, সংবিধান সংস্কার করতে হবে। 

বৃহৎ হাসপাতাল প্রকল্পে চীনা বিনিয়োগ আনতে মাঠে আরিফুল হক চৌধুরী

সিলেট-৪ আসনের মানুষের জন্য উন্নত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে ১,০০০ শয্যার একটি আধুনিক হাসপাতাল নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে চীনা বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট করার জন্য কাজ করছেন মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী। হাসপাতালটি বাস্তবায়িত হলে সিলেট অঞ্চলের স্বাস্থ্যসেবায় একটি নতুন দিগন্তের সূচনা হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।এই উদ্যোগের অংশ হিসেবে চীনের কয়েকজন বিনিয়োগকারীকে সিলেটে নিয়ে আসা হয়েছে। তারা সম্ভাব্য প্রকল্প এলাকা পরিদর্শন করছেন এবং হাসপাতাল নির্মাণের জন্য প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা সম্পর্কে ধারণা নিচ্ছেন। মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী নিজেও তাদের সঙ্গে বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখছেন এবং প্রকল্পের সম্ভাবনা তুলে ধরছেন। বর্তমানে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিলেট বিভাগের অনেক মানুষকে ঢাকাসহ দেশের অন্যান্য বড় শহরে যেতে হয়। বিশেষ করে জটিল রোগের চিকিৎসা, আধুনিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা এবং বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের সেবা পেতে রোগী ও তাদের স্বজনদের ভোগান্তিতে পড়তে হয়। একটি বড় ও আধুনিক হাসপাতাল নির্মিত হলে এসব সমস্যা অনেকাংশে কমে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, প্রস্তাবিত হাসপাতালটি আন্তর্জাতিক মানের স্বাস্থ্যসেবা প্রদানের লক্ষ্যে পরিকল্পনা করা হচ্ছে। এতে আধুনিক চিকিৎসা সরঞ্জাম, বিশেষায়িত বিভাগ, জরুরি চিকিৎসা সুবিধা এবং উন্নত রোগ নির্ণয় ব্যবস্থা থাকতে পারে। একই সঙ্গে হাসপাতালটিতে দেশি-বিদেশি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের সেবা নিশ্চিত করার বিষয়টিও বিবেচনায় রয়েছে।চীনা বিনিয়োগকারীরা হাসপাতাল নির্মাণে আগ্রহ দেখালে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের পথ আরও সহজ হবে। বিনিয়োগের পাশাপাশি হাসপাতাল পরিচালনা, প্রযুক্তিগত সহায়তা এবং চিকিৎসা অবকাঠামো উন্নয়নেও সহযোগিতার সুযোগ তৈরি হতে পারে। এর ফলে শুধু সিলেট-৪ নয়, পুরো সিলেট বিভাগের মানুষ উপকৃত হবেন। স্থানীয় বাসিন্দারা মনে করছেন, এ ধরনের একটি বৃহৎ হাসপাতাল প্রতিষ্ঠিত হলে স্বাস্থ্যসেবার মান বৃদ্ধি পাবে এবং কর্মসংস্থানের নতুন সুযোগ সৃষ্টি হবে। হাসপাতাল পরিচালনার জন্য চিকিৎসক, নার্স, টেকনিশিয়ান, প্রশাসনিক কর্মকর্তা ও অন্যান্য কর্মচারীর প্রয়োজন হবে। এতে স্থানীয়ভাবে অনেক মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হতে পারে।এছাড়া হাসপাতালকে কেন্দ্র করে আশপাশের এলাকায় বিভিন্ন ব্যবসা-বাণিজ্য ও সেবামূলক কার্যক্রমও সম্প্রসারিত হতে পারে। আবাসন, পরিবহন, ওষুধ, চিকিৎসা সরঞ্জাম এবং অন্যান্য খাতেও ইতিবাচক প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ফলে এই প্রকল্প শুধু স্বাস্থ্যসেবা নয়, স্থানীয় অর্থনীতিতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী আশা প্রকাশ করেছেন যে, সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সহযোগিতায় প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে। তিনি মনে করেন, আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ ও আধুনিক প্রযুক্তির সমন্বয়ে একটি মানসম্মত হাসপাতাল গড়ে তোলা গেলে সিলেট অঞ্চলের মানুষ উন্নত চিকিৎসাসেবা নিজ এলাকাতেই পাবেন।সার্বিকভাবে, সিলেট-৪ আসনে ১,০০০ শয্যার হাসপাতাল নির্মাণের এই উদ্যোগকে এলাকার স্বাস্থ্যখাত উন্নয়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। চীনা বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ ও অংশগ্রহণের মাধ্যমে প্রকল্পটি বাস্তব রূপ পেলে সিলেটের স্বাস্থ্যসেবায় নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

সব সময় চেয়েছি ভিন্নভাবে পর্দায় আসতে: সাবিলা

অভিনেত্রী সাবিলা নূর। টানা তিন ঈদে মুক্তি পেয়েছে তাঁর অভিনীত তিনটি সিনেমা। এবার ঈদে প্রেক্ষাগৃহে চলছে আজমান রুশোর সিনেমা ‘রকস্টার’। এতে দ্বিতীয়বারের মতো শাকিব খানের সঙ্গে জুটি হয়ে অভিনয় করেছেন তিনি। ‘রকস্টার’ সিনেমাসহ অভিনয় ও ক্যারিয়ারের নানা বিষয় নিয়ে সমকালের সঙ্গে কথা হয় তাঁর সঙ্গে। পরপর তিন ঈদে আপনার অভিনীত সিনেমা মুক্তি পেল। কেমন লাগছে বিষয়টি?বিষয়টি অবশ্যই আমার জন্য আনন্দের। ‘তাণ্ডব’ দিয়ে সিনেমায় আমার অভিষেক হয়। এরপর দুই ঈদেই সিনেমাতে অভিনয় করার সৌভাগ্য হলো। এটা নিঃসন্দেহে ভালো লাগার। এরমধ্যে দুই ঈদে মেগাস্টার শাকিব খানের বিপরীতে আর এক ঈদ শরিফুল রাজের সঙ্গে। সিনেমাগুলো দর্শকরা দারুণভাবে গ্রহণও করেছেন। আমার চরিত্রগুলোও দর্শকদের কাছে প্রশংসিত হলো। এটা আমার কাছে বড় প্রাপ্তিরও।শাকিব খানের সঙ্গে দ্বিতীয়বার পর্দায় নিজেকে দেখার পর কী মনে হচ্ছে?আমি খুবই সৌভাগ্যবান। কারণ, শাকিব ভাইয়ের সঙ্গে দ্বিতীয় প্রকল্পেই আমি মীরা চরিত্রটি করার সুযোগ পেয়েছি। যেখানে অভিনয় করার সুযোগ ছিল। সেখানে মীরার সঙ্গে আগুন চরিত্রের একটা দারুণ কেমিস্ট্রি! সিনেমাটি যারা দেখছেন, তারা ভালো লাগার কথা জানাচ্ছেন। রকস্টার মিউজিক্যাল ফিল্ম হলেও এটা নিটোল একটা প্রেমের ছবিও। সেই ছবির মীরা আমি হতে পেরেছি।রকস্টার মুক্তির পর থেকেই হলে হলে ঘুরছেন, দর্শকের প্রতিক্রিয়া কেমন?ঈদের দিন পরিবারকে সময় দিয়েছি। এখন সময় দিচ্ছি আমার দ্বিতীয় পরিবার দর্শকদের। তাদের সঙ্গে হলে সিনেমা দেখতে আমি ভীষণ পছন্দ করি। এ অভিজ্ঞতা আমি কখনোই মিস করতে চাই না। হলে গিয়ে দর্শকের প্রতিক্রিয়া দেখে আমি সত্যিই মুগ্ধ হয়েছি। বিশেষ করে শাকিব ভাইয়ের পাশাপাশি দর্শক আমার চরিত্রটা ভীষণভাবে পছন্দ করছে। তারা আমাকে সরাসরি পেয়ে সেটা জানিয়েছে, আমিও তাদের উচ্ছ্বাস কাছ থেকে দেখেছি। একজন অভিনয়শিল্পীর জন্য এমন দৃশ্য দেখার সুযোগ অন্যতম বড় প্রাপ্তিই মনে করি আমি।  সিনেমাটিতে শাকিব খানকে ভিন্নভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে, বলছেন অনেকেই। আপনি কী বলবেন?শাকিব খান তো প্রতিটি সিনেমাতেই ভিন্ন ভিন্ন চরিত্রে ও স্টাইলে হাজির হন। এই সিনেমায় তাঁর ট্রান্সফরমেশনটা আরও বেশি পরিমাণ হয়েছে। এখানে শাকিব ভাই নিজেকে যেভাবে প্রেজেন্ট করেছেন, আগে তিনি যা করেছেন, সেটার চেয়ে অনেক অনেক গুণে বেশি। এটার পেছনে অবশ্য সিনেমার গল্পই মুখ্য। কারণ সিনেমার জনরাও অন্যরকম। এটা মিউজিক্যাল রোমান্টিক সিনেমা। এখানে আমার আর শাকিব ভাইয়ের রসায়নটাও ভিন্ন টাইপ। এ ছাড়া এখানে আলাদা কিছু বিষয় আছে, যা এর আগে দর্শক কখনও দেখেনি। ‘তাণ্ডব’, ‘বনলতা এক্সপ্রেস’ ও ‘রকস্টার’– কোন সিনেমাটাকে এগিয়ে রাখবেন?তিনটিই আলাদা ধরনের সিনেমা। যেমন ‘তাণ্ডব’ বাণিজ্যিক ধারার সিনেমা, সেখানে ‘লিচুর বাগানে’ ধরনের গান ছিল, অ্যাকশন ছিল থ্রিলারও ছিল। আবার ‘বনলতা এক্সপ্রেস’ পুরোপুরি ভিন্ন টাইপ। তাণ্ডবের সঙ্গে এর কোনো দিক থেকেই মেলানো যাবে না। ‘বনলতা এক্সপ্রেস’-এর চিত্রার চেয়ে ‘রকস্টার’-এর মীরা একেবারেই আলাদা। কাজেই একটির সঙ্গে আরেকটির তুলনা চলে না। আর তিনটি ছবিই তো আমার। সিনেমাগুলোর গল্পও অসাধারণ! টেকনিক্যাল বিষয়টিও উন্নত। সবগুলোকেই আমি এগিয়ে রাখব।আগামীতে কী ধরনের গল্প ও চরিত্রে ফোকাস করতে চান?আসলে এটা বলা কঠিন। কারণ, আমি সব সময় চেয়েছি ভিন্ন ভিন্নভাবে পর্দায় আসতে। আমার কাছে গল্প মূল বিষয়। আমি ভালো গল্পে দর্শকের সামনে আসতে চাই, যা আগে কখনও করিনি। আমি অভিনয়ের মানুষ, ভালো ও চরিত্র পেলে যে কোনো গল্পে ও চরিত্রে কাজ করতে চাই। অনেক দিন আপনি নাটক-ওটিটিতে নেই…আমি নাটক থেকে উঠে এসেছি। এটাই আমার শেকড়। এরপর ওটিটিতে বেশকিছু কাজ করেছি। সেগুলো দর্শক ভালোভাবে নিয়েছে। তারপর সিনেমায় এসেছি। এখানেও দর্শক আমাকে দারুণভাবে গ্রহণ করেছে। নাটক, ওটিটি ও সিনেমা– এই তিনটি প্ল্যাটফর্মের প্রস্তুতি তিন রকম। সিনেমার প্রস্তুতি দীর্ঘদিন ধরে নিতে হয়। তাই নাটক, ওটিটিতে কাজ করা সম্ভব হয় না। তার মানে এই না যে, আমি একেবারে নাটক ছেড়ে দিয়েছি। আমার মূলকথা হলো অভিনয়। এটাই করে যেতে চাই।

মেটায় বড় ছাঁটাই, চাকরি হারাচ্ছেন ৮ হাজার কর্মী

ফেসবুকের মূল কোম্পানি মেটা বড় পরিসরে কর্মী ছাঁটাই শুরু করেছে। বুধবার থেকে ধাপে ধাপে প্রায় ৮ হাজার কর্মীকে ছাঁটাই করা হচ্ছে। এই সংখ্যা প্রতিষ্ঠানটির মোট কর্মীবাহিনীর প্রায় ১০ শতাংশ। একই সঙ্গে আরও প্রায় ৭ হাজার কর্মীকে নতুন দায়িত্বে স্থানান্তর করা হচ্ছে, যেখানে মূল ফোকাস থাকবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) সংশ্লিষ্ট কাজে। ছাঁটাই শুরুর আগে কোম্পানি বিভিন্ন অঞ্চলের কর্মীদের হোম অফিসে কাজ করার নির্দেশ দেয়, যা বড় পরিসরের ছাঁটাইয়ের সময় মেটার নিয়মিত পদ্ধতি। এরপর ধাপে ধাপে বিভিন্ন সময় অঞ্চলে কর্মীদের কাছে ছাঁটাই সংক্রান্ত ইমেইল পাঠানো হয়। কিছু কর্মী স্থানীয় সময় ভোর চারটার দিকে এই নোটিশ পান বলে জানা গেছে। পুরো প্রক্রিয়াটি বিভিন্ন টাইম জোন অনুযায়ী ভাগ করে সম্পন্ন করা হয়। রয়টার্সের দেখা একটি অভ্যন্তরীণ নথিতে বলা হয়েছে, প্রতিষ্ঠানটি এখন আরও ‘ফ্ল্যাট’ বা সরল কাঠামোয় যেতে চায়। মানবসম্পদ বিভাগের প্রধান জেনেল গেইল কর্মীদের বার্তায় বলেন, নতুন কাঠামোয় ছোট ছোট দল বা ‘পড’ গঠন করা হচ্ছে, যাতে দ্রুত কাজ করা যায় এবং কর্মীদের সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা বাড়ে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বিনিয়োগের কারণে বড় পরিবর্তন প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই ছাঁটাই মূলত কোম্পানির কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা খাতে বড় ধরনের বিনিয়োগ ও কৌশলগত পুনর্গঠনের অংশ। প্রতিষ্ঠানটি চলতি বছরে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তিতে প্রায় ১২৫ থেকে ১৪৫ বিলিয়ন ডলার পর্যন্ত বিনিয়োগ করার পরিকল্পনা করেছে। একই সঙ্গে কোম্পানিটি বড় সংগঠন কাঠামো ভেঙে ছোট, দ্রুতগতির এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা-কেন্দ্রিক দল গঠনের দিকে এগোচ্ছে। অনেক পুরোনো পদ বাতিল করে নতুন ধরনের এআই-ভিত্তিক ভূমিকা তৈরি করা হচ্ছে। কোম্পানির ভেতরে উদ্বেগ ও অস্থিরতা ছাঁটাইয়ের ঘোষণার পর কোম্পানির ভেতরে কর্মীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ, অনিশ্চয়তা এবং মানসিক চাপ তৈরি হয়েছে। অনেক কর্মী ভবিষ্যৎ চাকরি নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন। কিছু কর্মী আগেভাগেই অফিসের ব্যক্তিগত জিনিসপত্র, যেমন ল্যাপটপ চার্জার এবং অন্যান্য সরঞ্জাম সংগ্রহ করতে শুরু করেন বলেও জানা গেছে। এছাড়া কর্মীদের কাজ পর্যবেক্ষণের জন্য নতুন একটি অভ্যন্তরীণ নজরদারি ব্যবস্থা চালুর অভিযোগও উঠেছে, যা নিয়ে কর্মীদের মধ্যে অসন্তোষ ও বিরোধিতা দেখা দিয়েছে। অনেকেই মনে করছেন, এই ধরনের ব্যবস্থা কর্মপরিবেশকে আরও চাপপূর্ণ করে তুলছে। প্রযুক্তি খাতে ছাঁটাইয়ের বড় ঢেউ এই ছাঁটাই শুধু মেটা প্ল্যাটফর্মসের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। সাম্প্রতিক সময়ে প্রযুক্তি খাতে বড় ধরনের পুনর্গঠন চলছে। সিসকো সিস্টেমস, মাইক্রোসফট, অ্যামাজন এবং ওরাকলসহ একাধিক বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান কর্মী ছাঁটাই বা স্বেচ্ছা অবসরের মাধ্যমে তাদের কর্মী সংখ্যা কমাচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই প্রবণতা প্রমাণ করে যে প্রযুক্তি খাতে একটি বড় পরিবর্তন চলছে, যেখানে কোম্পানিগুলো ধীরে ধীরে বড় কর্মী নির্ভর কাঠামো থেকে সরে এসে ছোট কিন্তু বেশি দক্ষ দল গঠনের দিকে যাচ্ছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার কারণে কাঠামোগত পরিবর্তন বিশ্লেষকদের মতে, এটি কোনো সাময়িক অর্থনৈতিক সংকট নয়, বরং একটি কাঠামোগত পরিবর্তন। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তির দ্রুত অগ্রগতির কারণে অনেক নিয়মিত ও পুনরাবৃত্তিমূলক কাজ এখন মেশিন এবং সফটওয়্যার সিস্টেমের মাধ্যমে সম্পন্ন হচ্ছে। ফলে মানবশক্তির ওপর নির্ভরতা কমছে, আর কোম্পানিগুলো এখন এমন কর্মীদের ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে যারা জটিল সমস্যা সমাধান, নতুন প্রযুক্তি তৈরি এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা পরিচালনায় দক্ষ।