ড. ইউনূসের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা চেয়ে আইনি নোটিশ

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা আরোপের দাবি জানিয়ে সরকারের সংশ্লিষ্টদের প্রতি লিগ্যাল নোটিশ পাঠানো হয়েছে। সোমবার (৬ এপ্রিল) সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী এম আশরাফুল ইসলাম এ নোটিশ পাঠান। জানা যায়, হামের টিকাকে রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাপনা থেকে বেসরকারি খাতে স্থানান্তরিত করার অভিযোগে এই নোটিশ পাঠানো হয়েছে। নোটিশে ড. ইউনূসসহ অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা পরিষদের সকল সদস্যের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা আরোপের আবেদন করা হয়েছে। আইনি নোটিশের বিষয়টি আইনজীবী এম আশরাফুল ইসলাম সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক পোস্টে জানান। তিনি উল্লেখ করেন, হামের মতো গুরুত্বপূর্ণ টিকাকরণের ব্যবস্থাকে রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থা থেকে বেসরকারি খাতে স্থানান্তরিত করার মতো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার কারণে ড. ইউনূসসহ সব উপদেষ্টার দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা চেয়ে লিগ্যাল নোটিশ পাঠিয়েছি।

৪৫ দিনের যুদ্ধবিরতির শর্ত নিয়ে আলোচনা

যুক্তরাষ্ট্র, ইরান ও আঞ্চলিক কয়েকটি মধ্যস্থতাকারী দেশ সম্ভাব্য ৪৫ দিনের একটি যুদ্ধবিরতির শর্তাবলি নিয়ে আলোচনা করছে। এই আলোচনা শেষ পর্যন্ত মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের স্থায়ী অবসানের পথ তৈরি করতে পারে। গতকাল রোববার এমনটাই জানিয়েছে মার্কিন অনলাইন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস। যুদ্ধবিরতির শর্তা নিয়ে আলোচনার বিষয়ে জানাশোনা আছে—যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও আঞ্চলিক চারটি সূত্রের বরাত দিয়ে অ্যাক্সিওস এই খবর দিয়েছে।যুক্তরাষ্ট্র, ইরান ও আঞ্চলিক কয়েকটি মধ্যস্থতাকারী দেশ সম্ভাব্য ৪৫ দিনের একটি যুদ্ধবিরতির শর্তাবলি নিয়ে আলোচনা করছে। এই আলোচনা শেষ পর্যন্ত মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের স্থায়ী অবসানের পথ তৈরি করতে পারে। গতকাল রোববার এমনটাই জানিয়েছে মার্কিন অনলাইন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস। যুদ্ধবিরতির শর্তা নিয়ে আলোচনার বিষয়ে জানাশোনা আছে—যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও আঞ্চলিক চারটি সূত্রের বরাত দিয়ে অ্যাক্সিওস এই খবর দিয়েছে।

কুলাউড়ায় রক্ত পরীক্ষার সময় প্রাণ গেল নিউমোনিয়া আক্রান্ত শিশুর

মৌলভীবাজারের কুলাউড়ায় রক্ত পরীক্ষার জন্য নমুনা সংগ্রহের সময় নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত এক শিশুর মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। মৃত শিশুটির নাম রিহান (৩ মাস), তার বাড়ি মৌলভীবাজার জেলার কুলাউড়া উপজেলায় ভাটেরায়। জানা গেছে, কুলাউড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি নিউমোনিয়া আক্রান্ত শিশুকে গতকাল শনিবার রাত ৭টার দিকে সরকারি হাসপাতালে সম্মুখে তাজমহল ডায়াগনস্টিক সেন্টারে রক্ত পরীক্ষার জন্য নিয়ে যান অভিভাবকরা। এ সময় নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত তিন মাস বয়সী এই শিশুর রক্তের নমুনা সংগ্রহের সময় কান্নাকাটি করে কাঁপুনি উঠে নিল হয়ে যায়। পরে দ্রুত এই শিশুকে পুনরায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স নিয়ে আসলে কর্তব্যরত চিকিৎসক শিশুটিকে মৃত ঘোষণা করেন।সরেজমিন ঘটনার খবর পেয়ে কুলাউড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক শিশুটির মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেন এই প্রতিবেদককে।  মৃত শিশুর বাবা রিপন সিদ্দিকী বলেন, তিন মাস বয়সী ছেলে রিহান গত এক সপ্তাহ থেকে জ্বর ও নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত। গত শুক্রবার সকালে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ভর্তি করান শিশুকে। ভর্তির পর থেকে ক্যানুলার মাধ্যমে ইনজেকশন ও চিকিৎসা চলছিল। ডাক্তারের পরামর্শে এক্স-রে ও সিবিসি পরীক্ষার জন্য গতকাল শনিবার সন্ধ্যায় সরকারি হাসপাতালে সম্মুখে তাজমহল ডায়াগনস্টিক সেন্টারে যাই। এক্স-রে পরীক্ষার পর সিবিসি জন্য রক্তের নমুনা সংগ্রহের সময় শিশু কান্নাকাটি করে কাঁপুনি উঠে নিল হয়ে যায়।শিশুটির বাবা জানান, ডায়াগনস্টিক সেন্টারের লোকজন শিশুর হাত থেকে রক্ত নিতে না পেরে পায়ে নিতে গেলে বাচ্চা কান্নাকাটি করে অবশ হয়ে যায়। এসময় আবার তাকে সরকারি হাসপাতালের চিকিৎসকের কাছে নিয়ে আসি। হাসপাতাল থেকে পরীক্ষার জন্য যাওয়ার সময় শিশুটি স্বাভাবিক ছিল। তাজমহল ডায়াগনস্টিক সেন্টারের লোকজনের অবহেলাজনিত কারণে আমার বাচ্চার মৃত্যু হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন। এ বিষয়ে থানায় অভিযোগ দেওয়া হবে বলে জানান তিনি। কুলাউড়া কুলাউড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এর আরএমও ডা. জেরিন জানান, নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত শিশুকে শুক্রবার সকালে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ভর্তি করা হয়। হাসপাতালে বাইরে রোগীর স্বজনরা কিছু পরীক্ষা করাতে যান। সন্ধ্যায় অবশ অবস্থায় শিশুকে পুনরায় হাসপাতালে নিয়ে আসলে পালস না পেয়ে শিশুর মৃত্যু হয়েছে বলে নিশ্চিত হই। এ বিষয়ে কুলাউড়া তাজমহল ডায়াগনস্টিক সেন্টারের ম্যানেজারের সঙ্গে মোবাইলে কলে করেও যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। তবে রাত ৯ পর্যন্ত রোগীর স্বজন ও বিক্ষিপ্ত জনতা তাজমহল ডায়াগনস্টিক সেন্টার অবরোধ করে রাখেন। খবর পেয়ে কুলাউড়া থানা পুলিশের একটি টিম ঘটনাস্থলে উপস্থিত রয়েছে।

র‍্যাব-৯ এর অভিযানে সুনামগঞ্জের শান্তিগঞ্জে ধর্ষণ মামলার একমাত্র আসামি ‘জয়নুল আবেদিন’ সিলেট থেকে গ্রেফতার

র‍্যাপিড এ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব) এলিট ফোর্স হিসেবে আত্মপ্রকাশের সূচনালগ্ন থেকেই বিভিন্ন ধরনের নৃশংস ও ঘৃণ্যতম অপরাধ বিশেষ করে মাদক উদ্ধার, হত্যা মামলা, সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ, জঙ্গি দমন, অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার ও ছিনতাইকারীসহ বিভিন্ন অপরাধীদের গ্রেফতারে অগ্রণী ভূমিকা পালন করে আসছে। এছাড়াও যে কোন ধরনের সহিংসতা প্রতিরোধে র‍্যাবের প্রতিটি সদস্য প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হয়ে জনসাধারণের জন্য একটি নিরাপদ বাসযোগ্য সমাজ তথা দেশ বিনির্মাণে নিরলস ভাবে কাজ করে যাচ্ছে। ঘটনার বিবরণে জানা যায় যে, ভিকটিম সুনামগঞ্জ জেলার শান্তিগঞ্জ থানাধীন শিমুলবাঁক এলাকার বাসিন্দা। আনুমানিক ৯/১০ বছর পূর্বে ভিকটিমের সাথে তার স্বামীর বিবাহ বিচ্ছেদ হওয়ায় তিনি এক সন্তানসহ তার পিতার বাড়িতে ভাই ভাবীদের সাথে বসবাস করতেন। বিবাদী জয়নুল আবেদিনের বাড়ি ভিকটিমের পিতার বাড়ির পাশাপাশি। ঘটনার দিন গত ২৮/০৩/২০২৬ খ্রি. আনুমানিক ভোর ০৪.০০ ঘটিকার সময় প্রচন্ড ঝড় তুফান হচ্ছিল। তখন বিবাদী জয়নুল আবেদিন ভিকটিমের ঘরে ঢুকে তাকে বিভিন্ন রকম ভয় দেখিয়ে তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে। ঘটনার সময় প্রচন্ড ঝড় তুফান হওয়ায় ভিকটিম চিৎকার করলেও কেউ শুনতে পায়নি। বিবাদী উক্ত ঘটনার বিষয়ে কাউকে কিছু না বলার জন্য ভিকটিমকে বিভিন্ন ভয়ভীতি দেখিয়ে আনুমানিক সকাল ০৬.০০ ঘটিকার সময় ঘটনাস্থল থেকে চলে যায়। উক্ত ঘটনায় ভিকটিম নিজে বাদী হয়ে সুনামগঞ্জ জেলার শান্তিগঞ্জ থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। এরই প্রেক্ষিতে আসামিকে আইনের আওতায় আনতে র‍্যাব-৯ এই ঘটনার ছায়া তদন্ত শুরু করে এবং গোয়েন্দা তৎপরতা জোরদার করে। এরই ধারাবাহিকতায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র‍্যাব-৯, সিপিসি-৩, সুনামগঞ্জ এবং র‍্যাব-৯, সিপিএসসি, সিলেটের একটি যৌথ আভিযানিক দল গত ০৪ এপ্রিল ২০২৬ খ্রি. তারিখ আনুমানিক বিকাল ১৭.৪৫ ঘটিকার সময় সিলেটের কোতোয়ালী থানাধীন তালতলা এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে সুনামগঞ্জ জেলার শাস্ত্রিগঞ্জ থানার মামলা নং- ০৯, তারিখ-২৯/০৩/২০২৬ খ্রি. ধারা- নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০ (সংশোধনী/২০২৫) এর ৯(১); এর মূলে সুনামগঞ্জের শান্তিগঞ্জে ধর্ষণ মামলার এজাহারনামীয় একমাত্র আসামিকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়। গ্রেফতারকৃত আসামি- জয়নুল আবেদিন (৩৫), পিতা- মৃত আজিজ উদ্দিন, সাং- শিমুলবাঁক, থানা- শান্তিগঞ্জ, জেলা- সুনামগঞ্জ। পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের লক্ষ্যে গ্রেফতারকৃত আসামিকে সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। এছাড়াও দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে র‍্যাব-৯ এর চলমান গোয়েন্দা তৎপরতা ও অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এরশাদুল হকজেলা প্রতিনিধি সুনামগঞ্জ

কবে দেশে ফিরছেন সাকিব?

দীর্ঘদিন ধরেই দেশের বাইরে আছেন বাংলাদেশ জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক সাকিব আল হাসান। এ মুহূর্তে তার মূল লক্ষ্য যত দ্রুত সম্ভব দেশে ফিরে আইনি জটিলতার সমাধান করা। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে ভবিষ্যতে আবার রাজনীতিতে সক্রিয় হওয়ার ইচ্ছা রয়েছে বলেও জানান তিনি।সম্প্রতি একটি ইংরেজি দৈনিকে সাক্ষাৎকার দিয়েছেন নির্বাসনে থাকা এই অল-রাউন্ডার। ক্রিকেট, রাজনীতি ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে খোলামেলা কথা বলেন তিনি।দেশে ফেরার সম্ভাবনা কতটুকু এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আমি আশাবাদী। আমি সবসময়ই আশাবাদী মানুষ। আইনি প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। যদি দ্রুত সবকিছু সমাধান করতে পারি, নাহলে সময় লাগতে পারে। তবে আমি সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি দ্রুত বিষয়গুলো মিটিয়ে ফেলতে।যত দ্রুত এগুলো সমাধান হবে, তত দ্রুত আমি ফিরতে পারব।’ তিনি আরও বলেন, ‘স্বাভাবিকভাবেই, কেউ যদি নিজের দেশে যেতে না পারে, তাহলে সে দেশকে মিস করবেই। আমিও ব্যতিক্রম নই, আমি দেশকে ভীষণ মিস করি। আশা করি শিগগিরই ফিরতে পারব, আর তখন অবশ্যই খুব ভালো লাগবে।কবে দেশে ফিরছেন সাকিব? X সাকিব আল হাসান। ছবি: সংগৃহীত দীর্ঘদিন ধরেই দেশের বাইরে আছেন বাংলাদেশ জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক সাকিব আল হাসান। এ মুহূর্তে তার মূল লক্ষ্য যত দ্রুত সম্ভব দেশে ফিরে আইনি জটিলতার সমাধান করা। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে ভবিষ্যতে আবার রাজনীতিতে সক্রিয় হওয়ার ইচ্ছা রয়েছে বলেও জানান তিনি। সাক্ষাৎকার দিয়েছেন নির্বাসনে থাকা এই অল-রাউন্ডার। ক্রিকেট, রাজনীতি ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে খোলামেলা কথা বলেন তিনি। দেশে ফেরার সম্ভাবনা কতটুকু এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আমি আশাবাদী। আমি সবসময়ই আশাবাদী মানুষ। আইনি প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। যদি দ্রুত সবকিছু সমাধান করতে পারি, নাহলে সময় লাগতে পারে। তবে আমি সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি দ্রুত বিষয়গুলো মিটিয়ে ফেলতে। যত দ্রুত এগুলো সমাধান হবে, তত দ্রুত আমি ফিরতে পারব।’ তিনি আরও বলেন, ‘স্বাভাবিকভাবেই, কেউ যদি নিজের দেশে যেতে না পারে, তাহলে সে দেশকে মিস করবেই। আমিও ব্যতিক্রম নই, আমি দেশকে ভীষণ মিস করি। আশা করি শিগগিরই ফিরতে পারব, আর তখন অবশ্যই খুব ভালো লাগবে।’ ক্রিকেট নিয়ে তার ভাবনা জানাতে গিয়ে বলেন, ‘ভবিষ্যতে রাজনীতি করার সুযোগ সবসময়ই থাকবে। তবে একজন ক্রিকেটার হিসেবে সময় সীমিত, তাই এখন পুরো মনোযোগ খেলাতেই রাখতে চাই। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সঙ্গে যোগাযোগ নিয়ে তিনি বলেন, মাঝে মাঝে আলোচনা হলেও বেশিরভাগ বিষয় তাকে নিজ উদ্যোগেই সামলাতে হচ্ছে। তার ধারণা, বোর্ড সরাসরি আইনি প্রক্রিয়ায় যুক্ত হলে সমাধান আরও দ্রুত হতে পারত। উল্লেখ্য, চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের সংসদ সদস্য ছিলেন সাকিব আল হাসান। জুলাইয়ে রাজপথ উত্তাল হওয়ার আগেই দেশ ছেড়েছিলেন সাকিব। এরপর প্রায় দুই বছরে আর দেশে ফেরার সুযোগ হয়নি তার। বর্তমানে নিজের পরিবার নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছেন তিনি।

বিস্তারিত

‘সময় ফুরিয়ে যাচ্ছে’, ইরানকে ট্রাম্প

চুক্তি করার জন্য ইরানকে সময়সীমার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, সময় দ্রুত ফুরিয়ে যাচ্ছে। জবাবে ইরানের কেন্দ্রীয় সামরিক কমান্ডের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ‘নরকের দরজা আপনাদের জন্যই খুলে যাবে।’ ইরানের সামরিক কমান্ডের এই জবাব মূলত একদিন আগে ট্রাম্পের করা একটি মন্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট হুমকি দিয়ে বলেছিলেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে চুক্তি না করলে ইরানের ওপর নরক নেমে আসবে (রূপক অর্থে- কঠোর হামলা)। ভূপাতিত বিমানের নিখোঁজ ক্রুকে উদ্ধারের তথ্য জানানোর পর ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া পোস্টে ট্রাম্প তাঁর আগের এই হুমকির পুনরাবৃত্তি করেছেন। লিখেছেন, একটি চুক্তিতে পৌঁছানো অথবা হরমুজ প্রণালি খুলে দিতে ইরানকে দশদিন সময় দিয়েছিলাম। সেই সময় ফুরিয়ে আসছে। আর মাত্র ৪৮ ঘণ্টা বাকি। এরপরই তাদের ওপর ‘নরক’ নেমে আসবে। যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় সময় শনিবারের এই নতুন পোস্টের জবাবে ইরানের কেন্দ্রীয় সামরিক কমান্ডের জেনারেল আলী আবদুল্লাহি আলীআবাদি বলেছেন, এসব হুমকি ‘অসহায়ত্ব, স্নায়বিক, ভারসাম্যহীন এবং মূর্খতাসুলভ কাজ’। পাল্টা হুঁশিয়ারি দিয়ে আলীআবাদি বলেন, ‘আপনাদের জন্যই নরকের দুয়ার খুলে যাবে।’এদিকে রোববার কুয়েত ও ইসরায়েল জানিয়েছে, তারা ইরানের নতুন দফার হামলা প্রতিহত করছে। সংযুক্ত আরব আমিরাতও জানিয়েছে তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র মোকাবিলা করছে। আর বাহরাইনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ‘ইরানি আগ্রাসনে’ তাদের একটি তেল শোধনাগারে আগুন লেগেছে।

ঢাকায় প্রতি ঘণ্টায় একজন মানুষকে কামড়াতে আসছে প্রায় ৭০০ মশা!

রাজধানীর কাঁঠালবাগান এলাকার একটি বাসার কেয়ারটেকার মিজানুর রহমান। তার কাজ হলো বাসার গেট পাহারা দেওয়া। দিনভর গেট পাহারা দেওয়া সম্ভব হলেও সন্ধ্যার পর মশার উৎপাত তাকে সমস্যায় ফেলে। মিজানুরের দাবি, সন্ধ্যায় তাকে এত বেশি মশা ঘিরে ধরে যে, প্রতি থাপ্পড়ে অন্তত ৫টি মশা মারা যায়। অন্যদিকে, পান্থপথ এলাকার বস্তিতে বসবাসকারী কয়েকজন নারী মশার উৎপাতের কারণে ঘরে থাকতে পারছেন না। তারা রাস্তায় বসে কাগজ জ্বালিয়ে মশা নিবারণের চেষ্টা করছেন, যা কার্যত ব্যর্থ হচ্ছে। তারা বলছেন, রাস্তার অবস্থা তাদের খুপড়ি ঘরের তুলনায় কিছুটা ভালো। রাজধানীবাসীও অভিযোগ করছেন, হঠাৎ মশার উৎপাত পুরো শহরে বেড়েছে। নিয়ন্ত্রণে নগর প্রশাসনের কার্যক্রমে তেমন উদ্যোগ দেখা যায় না। অনেকের মতে, দীর্ঘদিন ওয়ার্ড পর্যায়ে জনপ্রতিনিধি না থাকাও এর একটি প্রধান কারণ। দীর্ঘদিন ধরে মশা নিয়ে গবেষণা করছেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের কীটতত্ত্ব গবেষক অধ্যাপক ড. কবিরুল বাশার। তিনি বাংলাভিশনকে জানান, তাদের গবেষণায় দেখা গেছে, ঢাকা শহরে গত ফেব্রুয়ারি ও মার্চে বিগত ৫ বছরের তুলনায় মশার ঘনত্ব বেশি ছিল। যদিও বর্তমানে তা কমতে শুরু করেছে। বর্তমান সময়ে ঢাকায় একজন মানুষকে প্রতি ঘণ্টায় কামড়াতে আসছে প্রায় ৭০০টি মশা। অধ্যাপক ড. কবিরুল বাশার বলেন, আমরা যে পদ্ধতিতে ফগিং করে মশা মারছি, এতে মশা নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়। বিশ্বের অনেক দেশও এখন এই পদ্ধতি ব্যবহার করছে না। মশা নিয়ন্ত্রণ করতে হলে লার্ভা স্তর থেকেই ব্যবস্থা নেওয়া ছাড়া বিকল্প নেই।তবে ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন প্রশাসক জানাচ্ছেন, মশক নিধনের কার্যক্রমে কোনো ঘাটতি নেই। বরং মশা বৃদ্ধির মূল কারণ হলো শহরের খালগুলোর অপরিচ্ছন্নতা। ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান বাংলাভিশনকে জানান, ডিজেল সংকটের কারণে মশক নিধন কিছুটা ব্যাহত হয়েছিল। তবে আমরা পেট্রোবাংলার সঙ্গে সমাধান করেছি। এখন কার্যক্রমে কোনো ঘাটতি নেই। খালগুলো অপরিচ্ছন্ন থাকায় সেখান থেকেই মশার উৎপত্তি হচ্ছে। আমরা খালগুলো সচল করার চেষ্টা করছি। তবে, নগরবাসী সহযোগিতা না করলে শতভাগ পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে না। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. আব্দুস সালাম বলেন, আমি দায়িত্ব নিয়ে মশা নিধনের ক্র্যাশ প্রোগ্রাম হাতে নিয়েছি। ইতোমধ্যেই মশা সংক্রান্ত অভিযোগ কমেছে। আশা করি শিগগিরই যেসব এলাকায় ঘাটতি রয়েছে, সেগুলোও সমাধান করা সম্ভব হবে। ওয়ার্ড পর্যায়ে জনপ্রতিনিধি সংকট অবশ্যই প্রভাব ফেলে। তবে, আমরা এই ক্রাইসিস মোকাবিলার জন্য ঢাকার আসনগুলো থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্যদেরও কাজে যুক্ত করার চেষ্টা করছি।

নানি-নাতির বাংলাদেশ জয়ের গল্প

এপিআই (এশিয়ান প্যাসিফিক আইল্যান্ডার)– যুক্তরাষ্ট্রে যারা থাকেন তাদের অনেকেরই জানা প্রতি বছরের মে মাসটা তাদের একটি জনগোষ্ঠীর জন্য ঐতিহ্য ও উদযাপনের মাস। এই মাসে সেখানকার এশীয় বংশোদ্ভূত সফল ব্যক্তিত্বদের কৃতিত্ব স্মরণ করা হয়। ২০২৩ সালে তেমনই এক এপিআই উদযাপনে ফিলাডেলফিয়া ইউনিয়ন নামের ক্লাবটি তাদের খেলোয়াড় কুইন সুলিভানের বাংলাদেশি শিকড়ের কথা জানিয়ে একটি ভিডিও পোস্ট করে; যেখানে দেখানো হয় ফিলাডেলফিয়ার এক বাংলাদেশি রেস্টুরেন্ট ‘লবঙ্গ কাবাব অ্যান্ড ক্যাফে’তে বসে সামনে ধোঁয়া ওঠা নান রুটির সঙ্গে গরু আর খাসির ঝোল নিয়ে খেতে বসেছিলেন কুইন সুলিভান।  সঙ্গীর সঙ্গে খাবারের স্বাদ ভাগাভাগি করতে গিয়ে বলছিলেন খাবারটির সঙ্গে তাঁর বাংলাদেশি সম্পর্কের কথা। জানিয়েছিলেন তাঁর নানি ঢাকার মেয়ে, এই খাবার তাঁর হাতেই খেয়েছেন। স্থানীয় মিডিয়াও শিরোনাম করে– ‘মেজর সকার লিগে খেলা একমাত্র সক্রিয় বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ফুটবলার’। ইনস্টাগ্রাম ঘাঁটতে গিয়ে বাংলাদেশ থেকে সেই শিরোনামে চোখ পরে আসির আওসাফ তাসিনের। যিনি ‘সেভ ফুটবল বাংলাদেশ’ নামের দেশীয় ফুটবল সমর্থকদের একটি গোষ্ঠীর ফেসবুক পেইজের অ্যাডমিন। ক্রিকেট আর ইউরোপীয় ফুটবলের অমোঘ আকর্ষণের বাইরেও যিনি দেশের ফুটবলের মান উন্নয়ন ও প্রচারে অনেকটা সময় ব্যয় করেন। সেই তিনিই এরপর ইনস্টাগ্রামে খুঁজতে থাকেন এই কুইন সুলিভানকে। এতেই পেয়ে যান রোনান আর ডেকলান ভাইদের সন্ধান। পরিচয় পর্বের দুই বছরে অনেক প্রচেষ্টার পর সফল স্কাউটের মতো অবশেষে পেয়ে যান বাংলাদেশ ফুটবলে নানি-নাতিদের বাংলাদেশ জয়ের গল্প। ‘আমি আসলে ইনস্টাগ্রামে প্রথম কুইনকে খুঁজছিলাম, কেননা তার আগে কোথায় যেন তাঁর বাংলাদেশি শিকড়ের খবরটি পড়েছিলাম। কুইনকে পাওয়ার পর তাঁর ভাই রোনানের ইনস্টাগ্রামও পেয়ে যাই। তাকে মেসেজ দিতে থাকি। একসময় সে রিপ্লাই দেয়। তাকে বাংলাদেশ ও বাংলাদেশ ফুটবল সম্পর্কে ইতিবাচক ধারণা দিতে থাকি। সেও বাংলাদেশ সম্পর্কে আগ্রহ দেখাতে থাকে। এক সময় তাকে জানাই সে বাংলাদেশে খেলতে আগ্রহী কিনা? ইতিবাচক থাকলেও সেভাবে চূড়ান্ত কিছু জানাচ্ছিল না রোনান। এভাবেই প্রায় ছয় সাত মাস কেটে যায়। হাল ছাড়িনি। এক সময় তার কাছ থেকে ঢাকায় তার নানির ঠিকানা নিই। এ সবই হয়েছিল ২০২৪ সালের আগস্ট-সেপ্টেম্বরের দিক। এরপর তার নানির ধানমন্ডির ঠিকানা নিয়ে দেখা করি। তাঁর সাক্ষাৎকার নিই। তিনি পরামর্শ দেন রোনানের বাবা-মায়ের সঙ্গে কথা বলতে। তাদের সঙ্গেও কথা বলি এবং তাদের সঙ্গে বাফুফের সহসভাপতি ফাহাদ করিমের সঙ্গে যোগাযোগ করিয়ে দিই।’  তাসিন জানান, ওই পর্যন্ত তাঁর দায়িত্ব ছিল অনূর্ধ্ব-২০ দলের জন্য বিশ্বমানের একজন ফুটবলার খুঁজে দেওয়ার। এরপর বাকিটা তো ইতিহাস, সুলিভান ভাইদের নজরকাড়া পারফরম্যান্সে ভারতকে হারিয়ে সাফ অনূর্ধ্ব-২০ চ্যাম্পিয়ন হয় বাংলাদেশ। আসলে গল্পটা এক নানি আর তাঁর নাতিদের লাল-সবুজ জয় করার। বড় নাতি তাঁর কুইন সুলিভান, যে কিনা এরই মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রে বয়সভিত্তিক দলের হয়ে বিশ্বকাপ খেলেছেন। বাড়ির সবার আশা এবার যুক্তরাষ্ট্রের হয়ে মূল বিশ্বকাপেও সুযোগ পাবেন বড় ছেলে। ছোট ছেলে কাভান সুলিভানের বয়স মাত্র সতেরো, ম্যানসিটি থেকে এখনই ডাক এসেছে এই মিডফিল্ডারের। আর মাঝে দুই যমজ ভাই– রোনান আর ডেকলান। নানিবাড়ির হয়ে খেলার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন এই দুই ভাই।  গত মাসেই প্রথমবার বাংলাদেশে এসেছেন। ৩৫ জনের ট্রায়াল থেকে নিজেদের জায়গা করে নিয়েছেন মূল দলে। চার পাশে মানুষের এত ভালোবাসা, এত আবেগ দেখে দারুণ আপ্লুত ডেকলান। ‘আমার দেখা পৃথিবীর সেরা সমর্থক এই বাংলাদেশিরা। তাদের এত ভালোবাসা আমাদের প্রেরণা দিচ্ছে জাতীয় দলের হয়ে খেলার।’  মালদ্বীপের মালেতে ভারতকে হারানোর পর এভাবেই নিজের অনুভূতি ব্যক্ত করতে দেখা যায় ডেকলানকে। রোনানও ছিলেন দারুণ আবেগী। জয়সূচক গোলটি করার পরই মেসির মতো জার্সি খুলে গ্যালারির সামনে তাঁকে উদযাপন করতে দেখা যায়। তিনিও স্বপ্ন দেখেন একদিন হামজার মতো তিনিও বাংলাদেশ জাতীয় দলের হয়ে খেলবেন। ওদিকে তারা নানি সুলতানা আলম, যে কিনা দুই নাতির মধ্যে নিজের শিকড়কে খুঁজে পান। মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন। একসময় চাকরি করেছেন জাতিসংঘেও। এখন গর্ব তাঁর দুই নাতিকে বাংলাদেশের জার্সি গায়ে দেখে। ‘সত্যিই এ এক অন্যরকম অনুভূতি। দারুণ গর্বিত আমি। দুই নাতি বাংলাদেশের হয়ে খেলেছে এবং দেশকে ট্রফি এনে দিয়েছে। বাংলাদেশের মানুষ যেভাবে তাদের গ্রহণ করেছে তা দেখে খুব ভালো লাগছে।’  শুক্রবার মালেতে ভারতকে হারিয়ে অনূর্ধ্ব-২০ সাফ জয়ের পর এভাবেই ঢাকা থেকে যাওয়া একটি টেলিভিশনের সামনে নিজের প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করছিলেন সুলতানা আলম। বহু বছর আগে ঢাকার মেয়ে সুলতানা পাড়ি জমিয়েছিলেন যুক্তরাষ্ট্রে। সেখানে ইউনিভার্সিটি অব পেনসিলভানিয়ায় পড়তে গিয়ে বিয়ে করেন এক জার্মান অধ্যাপককে। সেই দম্পতির মেয়ের ঘরেই জন্ম চার ভাই কুইন, রোনান, ডেকলান আর কাভান সুলিভানের। ফুটবল পরিবারটির একেবারে রক্তে মেশা। রোনানের বাবা ব্রেন্ডান সুলিভান অস্ট্রেলিয়ার ‘এ’ লিগে ছয় বছর পেশাদার ফুটবলে পাঁচটি ক্লাবের হয়ে খেলেছেন। রোনানের মা হেইকে বিশ্ববিদ্যালয় দলের হয় খেলেছেন। রোনানদের চাচাতো ভাই ক্রিস অলব্রাইটও যুক্তরাষ্ট্র দলের হয়ে খেলেছেন। তাদের নানা ল্যারি সুলিভান– তিনি ভিলানোভা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান কোচের দায়িত্ব পালন করেছেন। সব মিলিয়ে ফুটবল নিয়েই পরিবারটির যত স্বপ্ন আর সাধনা। যেখানে বাংলাদেশের হয়ে দুই ভাইয়ের খেলা দেখতে বসে কুইন আর কাভানও বাংলাদেশের ফুটবলের আবেগে জড়িয়ে পড়েছেন।  সেদিন যখন রোনান ভারতের বিপক্ষে পেনাল্টি কিক নিতে যাবেন তার ঠিক আগেই কুইন সামাজিক মাধ্যমে ভিডিও পোস্ট করেন–‘চিপ হিট’। টেলিপ্যাথি কিনা কে জানে, সেই চিপ হিটই নিয়েছিলেন রোনান। তার সেই পানেনকা শটেই জয় নিশ্চিত হয়ে যায় বাংলাদেশের।

জ্বালানি সংকটে বদলে যাচ্ছে জীবনযাত্রা

সাত্তার হোসেন পেশায় গাড়িচালক। গ্রামের বাড়ি বরিশালের গৌরনদীর সরিকল এলাকায়।  ঢাকায় গণপূর্তের এক ঠিকাদারের মাইক্রোবাস চালান তিনি। গতকাল শনিবার বেলা ১১টার দিকে তিনি রাজধানীর পরীবাগের মেঘনা ফিলিং স্টেশন থেকে অকটেন নেওয়ার জন্য লাইনে দাঁড়ান। শাহবাগ মোড় ঘুরে মেট্রোরেল স্টেশনের সামনে যখন তাঁর গাড়ি পৌঁছে, তখন বিকেল সাড়ে ৪টা পেরিয়ে গেছে। হতাশা আর ক্লান্তি নিয়ে তিনি বললেন, পাম্প পর্যন্ত পৌঁছতে আরও এক ঘণ্টা লেগে যাবে। এভাবে তেল নিতে গেলে আর জীবন থাকে না।  শুধু সাত্তার হোসেনই নন, সেখানে যারা জ্বালানি তেল নিতে এসেছিলেন সবার কমবেশি একই পরিস্থিতি। একেকজনের তেল নিতে পাঁচ থেকে সাত ঘণ্টা পর্যন্ত লাগছে। কর্মদিবসের প্রায় পুরো সময় শেষ হয়ে যাচ্ছে জ্বালানি নিতে। এ কারণে অনেকের সাপ্তাহিক ছুটি বাতিল করে দিয়েছেন গাড়ির মালিক। আবার তেল নিতে বাড়তি সময় খরচ হওয়ায় ঘুম ও বিশ্রামের সময় কমে গেছে অনেকের। আর যারা রাইড শেয়ার করেন, তাদের সংকট আরও বেশি। আর্থিক ক্ষতি পোষাতে বাড়তি সময় রাইড শেয়ার করতে হচ্ছে। অসুস্থ হয়ে পড়ছেন বলে জানালেন কয়েকজন চালক। তিনি অভিযোগ করেন, কয়েক দিন আগে নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারের গোপালদী বাজারের পাশে একটি দোকানে ২০০ টাকা লিটার অকটেন বিক্রি করতে দেখেছেন। তাঁর ধারণা, পাম্পের সঙ্গে আঁতাত করে এই তেল বাইরে পাঠিয়ে কিছু অসাধু লোক ফায়দা লুটছে।  প্রাইভেটকারচালক জাকির হোসেন বলেন, লাইনে দাঁড়ানোর পর থেকে পাম্প পর্যন্ত পৌঁছাতে অন্তত ৩০০ বার স্টার্ট দেওয়া লাগে। কারণ, একটু এগিয়ে বারবার স্টার্ট বন্ধ করতে হয়। এতেই তেল আরও চলে যায়। আর কতদিন এ রকম জ্বালানি সংকট থাকবে– সে প্রশ্ন করেন তিনি।   জিপচালক মো. নুরুদ্দিন বলেন, তেল সংকটের কারণে মালিক আমার সাপ্তাহিক ছুটি বাতিল করেছেন। আবার তাঁর গাড়ি সিএনজি গ্যাসেও চলে না। তেল নিতে গেলে পাম্পে দুই হাজার টাকার বেশি তেল দেয় না। অথচ এক দিন পরেই ওই তেল শেষ হয়ে যায়। যখন তেল থাকে না, তখন পাম্পে লাইনে দাঁড়াতে বলে মালিক সিএনজি অটোরিকশায় বাসায় চলে যান।  মেঘনা ফিলিং স্টেশন থেকে জ্বালানি নিতে ব্যক্তিগত গাড়ির লাইনই বেশি। আর কিছু আছে বাইকের লাইন। বাস-পিকআপ তেমন দেখা যায়নি। যারাই লাইনে গাড়ি নিয়ে দাঁড়িয়েছেন, সবারই একই অভিজ্ঞতা। সাত ফিলিং স্টেশন ঘুরে সিটিতেমিরপুর-২ নম্বরে থাকেন মোবাইল ফোনে সংযোগদাতা একটি প্রতিষ্ঠানের গাড়িচালক নূর আলম। গতকাল অনেক অফিস বন্ধ থাকায় ফিলিং স্টেশনে ভিড় কম হবে ভেবে বের হয়েছিলেন। তবে বাস্তব চিত্র ছিল একেবারে আলাদা। গাবতলী ও মতিঝিল এলাকার সাতটি ফিলিং স্টেশনে গিয়ে দীর্ঘ লাইন দেখে দাঁড়াননি। শেষে বিকেল ৪টার দিকে তিনি তেজগাঁও শিল্পাঞ্চলের সিটি ফিলিং স্টেশনে আসেন। এখানে দেড় ঘণ্টা অপেক্ষার পর মেলে জ্বালানি তেল।  নূর আলম জানান, সপ্তাহে অন্তত দুই দিন তেল নিতে হয়। যেদিন তেল নেন, সেদিন নির্ধারিত ডিউটির বাইরে অতিরিক্ত দুই-তিন ঘণ্টা সময় ব্যয় করতে হয় তাঁকে। ফলে বাসায় ফিরতেও দেরি হয়। দীর্ঘ সময় অপেক্ষার ভোগান্তি তো আছেই। সরেজমিন দেখা যায়, মোটরসাইকেলে রাইড শেয়ার যাদের পেশা, তাদের সমস্যা আরও বেশি। প্রতিদিনই তাদের তেলের প্রয়োজন পড়ে। তেমনই একজন রাজধানীর ডেমরার বাসিন্দা মো. নিজাম। তিনি বলেন, প্রতিদিন তেল নিতে গড়ে দুই ঘণ্টা সময় নষ্ট হচ্ছে। এই সময় কোনো আয়ও হচ্ছে না। বাধ্য হয়ে বাড়তি সময় বাইক চালাতে হচ্ছে। কম ঘুমিয়ে বেশি সময় রাস্তায় থাকায় শরীরের ওপর প্রভাব পড়ছে। মগবাজারের মধুবাগ এলাকার বাসিন্দা মো. জুবায়েরও রাইড শেয়ার করেন। তিনি জানান, দুই বা এক দিন পরপর তেল লাগে তাঁর। দেড়-দুই ঘণ্টা পর্যন্ত লাইনে দাঁড়াতে হয়। যদিও গতকাল তিনি ৪৫ মিনিটের মাথায় তেল পেয়েছেন।  সিটি ফিলিং স্টেশনে তুলনামূলক কম সময় অপেক্ষা করে তেল পাওয়া যাচ্ছে– এমন খবরে দূর থেকে অনেকে এসেছেন। তাদের একজন পুরান ঢাকার লালবাগের বাসিন্দা রিফাত হোসেন। তিনি বলেন, আমার এলাকার পাম্পগুলোয় তেল পাচ্ছিলাম না। ফেসবুকে খোঁজ নিয়ে দেখলাম, এই পাম্পে কম সময়ে তেল পাওয়া যাচ্ছে। তাই এখানে এসেছি।  সিটি গ্রুপের কর্মকর্তা খালেদুজ্জামান বলেন, আমি থাকি মিরপুরে, আর অফিস গুলশানে। কিন্তু ওইসব এলাকার পাম্পে আরও লম্বা লাইন। তাই বাইক নিয়ে এখানে এসেছি। তাও সোয়া ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হয়েছে।  সিদ্ধেশ্বরী এলাকার এক ব্যক্তির গাড়ি চালান সুলতান রাঢ়ী। তিনি সিটি ফিলিং স্টেশনে বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে তেল নিচ্ছিলেন। জানালেন, বিকেল সাড়ে ৩টায় তেলের জন্য লাইনে দাঁড়িয়েছিলেন তেজগাঁও ট্রাকস্ট্যান্ড রেলগেটের কাছে। অন্যদিন চার ঘণ্টা পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়। এ জন্য রাত ৮টায় ছুটি হলেও তেল নেওয়া শেষে রাত ১১টা-১২টার দিকে বাসায় যেতে হয়। সেই তুলনায় লাইনে কিছুটা কম সময় অপেক্ষা করতে হয় প্রাইভেটকার চালক মো. সজীব ও রহিম হাওলাদারকে। তারা সোয়া ঘণ্টায় তেল পেয়েছেন। মো. হানিফ থাকেন ঢাকার আশুলিয়া এলাকায়। তবে ওই এলাকায় তেল পেতে দীর্ঘ অপেক্ষা করতে হয়। তাছাড়া প্রায়ই লাইনে দাঁড়িয়ে শুনতে হয়, তেল শেষ। তাই গতকাল তিনি আসেন সিটি ফিলিং স্টেশনে। এখানেও দুই ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হয়েছে।    প্রভাব পরিবহনেজ্বালানি সংকটের প্রভাব পড়েছে পরিবহন খাতে। রাজধানীর সড়কে ব্যক্তিগত যানবাহন চলাচল কমেছে। গণপরিবহনেও প্রভাব পড়েছে। কর্মদিবসেও ঢাকার রাস্তায় বাস চলাচল আগের চেয়ে কমেছে। গুলিস্তান থেকে গাজীপুরের চন্দ্রা রুটে চলাচলকারী আজমেরী গ্লোরী পরিবহনের একটি বাস বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে সিটি ফিলিং স্টেশনে তেল নেওয়ার অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে ছিল। বাসটির চালক জাবেদ হোসেন ও হেলপার জসীম উদ্দিন জানান, বিকেল ৪টায় লাইনে দাঁড়িয়েছেন। তেল পেতে দুই ঘণ্টা পেরিয়ে যাবে। তেল সংকটের প্রভাব পড়ছে তাদের রোজগারেও। আগে দিনে চারবার চন্দ্রা-গুলিস্তান ট্রিপ দিতেন। এখন তা অর্ধেকে নেমে এসেছে।  একাধিক বাস কোম্পানির চালকের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ফিলিং স্টেশনগুলোতে জ্বালানি সংকটের কারণে তাদের বাস ও ট্রিপের সংখ্যা কমাতে হয়েছে। চট্টগ্রামসহ বিভাগীয় শহরগুলো এবং জেলা পর্যায় থেকে একই ধরনের তথ্য পাওয়া গেছে।